দিবস

বিশ্ব হিজাব দিবস ২০২৩: হিজাব এর অর্থ এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া

হিজাব নারীকে সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা প্রদান করে। যদিও এটি মুসলিমদের সংস্কৃতি। তবুও এতে সকল ধর্ম বর্ণের নারীদের জন্য রয়েছে আদর্শ। তাই নাজমা খানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বব্যাপী ১ ফেব্রুয়ারি হিজাব দিবস। এই দিন ১৪০ টি দেশের ও বেশি জায়গায় একযোগে পালিত হয় বিশ্ব হিজাব দিবস। এই দিনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় যে যে ধর্মেরই হোক না কেন হিজাব যে একটি কল্যাণকর পোশাক ও উদ্যোগ তা প্রত্যেকের মনে স্মরণ করিয়ে দিতে।

হিজাব নিয়ে স্ট্যাটাস 

বোরকাপড়া ছবি ডাউনলোড- বোরকা নিয়ে মজার ক্যাপশন

 

হিজাব দিবসের ইতিহাস

২০১৩ সালে এক ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে বিশ্ব হিসাব দিবস। বাংলাদেশী এক মহীয়সী নারী এর প্রথম প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা। হিজাব মুসলিম সংস্কৃতিতে বাধ্যতামূলক নারী পোশাক। এতে কি কল্যাণ রয়েছে এটি পালন করলে প্রত্যেক নারী কি কি সুবিধা পাবে তা উপলব্ধি করিয়ে দিতে এই দিবসে বাংলাদেশ সহ মোট ১৯০ টি দেশে একযোগে পালিত হয় দিবসটি।

হিসাব দিবস কোথায় শুরু হয়?

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশি নারী নাজমা খান প্রথম হিজাবের উপকারিতা সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচুর প্রচারণা চালান। এরই অংশ হিসেবে হিজাবকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি ও এতি পালনের জন্য নির্দিষ্ট দিবস দাবি করে লেখালেখি করতে থাকেন তিনি।

এক পর্যায়ে মুসলিম দেশগুলো এই হিজাব কে বিশ্বব্যাপী পালন করার জন্য এ দাবীকে সমর্থন করে নিজ নিজ দেশে এক ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিজয় দিবস পালন করেন। এই দিবস শুরুর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ইহুদী-খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের নারীরা এ দিবসকে মর্যাদা দিবস হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে এটি 190 টিরও বেশি দেশে নিয়মিত পালন করা শুরু হয়।

বিশ্ব হিজাব দিবসের প্রতিক্রিয়া

দ্য মুসলিম ওইম্যান সোসাইটি এবং মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্রিটেন নামের সংগঠন দুটি অ্যাসেম্বলি ফর প্রটেকশন অফ হিজাব নামে একটি ইভেন্টের আয়োজন করেন। এটি ২০০৪ সালের ১৭ই জানুয়ারি আয়োজিত হয়।

এতে নেতৃত্ব প্রদান করেন আল্লামা ইউসুফ আল-কারজাবি। বাংলাদেশের এই ইভেন্টের সমর্থনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়ে থাকে। এছাড়া মুসলিম অমুসলিম বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করার প্রতি প্রচুর আগ্রহ দেখা যায়।

হিজাব কি-হিজাব এর অর্থ

আরবিতে বলা হয় হিজাব এর বাংলা অর্থ আবরণ বা পর্দা। ইসলামী হুকুমতের পরিভাষায় অশ্লীলতা ও ব্যভিচার নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে ইসলামী শরীয়ত নারীকে ভীমপুরুষ ও গায়রে মাহরাম ব্যক্তি থেকে নিজ নিজ রূপ লাবণ ও সৌন্দর্য গোপন করতে যে মাথা সহ বুকের উপর পর্যন্ত লম্বা চাদর কিংবা ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে রাখাকে হিজাব বোঝায়।

বিশেষত হিজাব বলতে নিষিদ্ধ পুরুষদের সাথে অবাধে মেলামেশা করা থেকে বিরত থাকাকে বোঝায়।এবং ভীমপুরুষদের দৃষ্টি যাতে কোন নারীর শরীরের গঠন সম্পর্কে বুঝতে না দেয় এজন্য পরিপূর্ণভাবে ঢেকে রাখা কেউ বোঝায়।

হিজাব একটি ইসলামী শরীয়তের ফরজ বা বাধ্যতামূলক বিষয়। এতে অসীম কল্যাণ রয়েছে যদি নারীরা বুঝতে পারে। বর্তমান সমাজে তাই দেখা যায় হিজাব পরিহিত নারীরা যৌন নিপীড়ন কিংবা অত্যাচারের শিকার হয় কম।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ নির্দেশ করে বলেন-  ”প্রত্যেক পুরুষের উপর তার পরিবারের স্ত্রীদের কন্যা সন্তানদের ও মুমিনদের নারীদেরকে উপদেশ দিয়েছেন তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ দিয়ে নিজেদের মুখের উপর নামিয়ে দেয়।” (সূরা আহযাব আয়াত ৫৯)

উপসংহার

হিজাব নারীর ভূষণ। বড় ওড়না বা চাদর দিয়ে নিজের মুখ মণ্ডল বুক পিঠ সহ দেহের স্পর্শকাতর আবেদনময়ী জায়গাগুলো আদবের সহিত ঢেকে মুড়িয়ে নেয়ার নাম হিজাব। তবে অনেকে মনে করেন বোরকা পরলেই হয়তো হিজাব পালন করা হয় কিন্তু বর্তমান সময়ের ফ্যাশনেবল বোরকা গুলো দেহের গঠন ও সৌন্দর্য প্রকাশ করে অর্থাৎ প্রচুর টাইট ফিটিং বোরকা।

কিন্তু মূলত হিজাবের লক্ষ্য হলো অন্যের দৃষ্টি থেকে নিজের দেহকে নিরাপদ রাখা এবং মানসিক ভাবে দৈহিক অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ এবং গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে মাখামাখি সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা। তাই হিজাব বলতে পোশাকের পাশাপাশি মনের প্রস্তুতিকে বোঝায়। এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্ট করবেন।

মোঃ জাহিদুল ইসলাম

আমি মোঃ জাহিদুল ইসলাম । 2018 সাল থেকে সমাজের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক,মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অবলোকন করে- জীবনকে পরিপূর্ণ আঙ্গিকে নতুন করে সাজানোর আশাবাদী। নতুনের প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরস্থায়ী- তাই নবরুপ ওয়েবসাইটে নিয়মিত লেখালেখি করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button